Wednesday, 15 April 2026
Wednesday, 16 October 2024
লক্ষ্মী মেয়ে
লক্ষ্মী মেয়ে
~ শ্রী সৈকত
মেয়ে, তুই লক্ষ্মী হ।
মেয়ে, তুই ফসলের ক্ষেতে ক্ষেতে ছুটে বেড়া,
হাতে হাত মিলিয়ে সোনার ফসল ফলা বন্ধ্যা মাটির বুকে—
মেয়ে, তুই লক্ষ্মী হ।
তুই অবাধ্য, তুই বন্ধনহীন, তুই চঞ্চল, উচ্ছৃঙ্খল,
এতদিন ধরে বয়ে নিয়ে আসা ‘কর্তার ভূতেদেরকে’
এক ঝটকায় ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলে,
এই পচাগলা সমাজটাকে নিয়ে ছুটে চল
পাতালের দানবের দেশ থেকে আনন্দধামের দিকে…
মেয়ে, তুই লক্ষ্মী হ।
বড়ো বড়ো মানুষের ষড়যন্ত্রে, আত্মহত্যা করেছে যে কৃষক বাবা,
তাঁর পরিবারের ভার তুলে নে তোর শক্ত দুই কাঁধে:
মুছিয়ে দে তাদের চোখের জল,
জাতের জন্য মার খাচ্ছে যারা প্রতিদিন।
অপরিচিতের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে
দিন থেকে রাত, রাত থেকে দিন হয়ে যাক তোর…
মেয়ে, তুই লক্ষ্মী হ।
তোর হাত ধরে থামুক লুকিয়ে লুকিয়ে গর্ভ থেকে
লক্ষ্মীদেরকে নিঃশব্দে সরিয়ে ফেলার চক্রান্তগুলো।
তোর হাত ধরে উড়ুক বিশ্ব, বিজ্ঞানের নতুন গতিপথে—
অন্ধবিশ্বাস আর ধর্মের নামে গোঁড়ামিকে ছিন্নভিন্ন করে দিক
তোর ওই বরাভয়-প্রদায়ী দুটো হাত।
মেয়ে, তুই লক্ষ্মী হ।
তোর হাতের কঠিন পুলিশি প্রহারে গড়িয়ে পড়ুক ধর্ষকের রক্ত,
আর সেই রক্ত, টকটকে লাল গোলাপ হয়ে ফুটে থাকুক
প্রতিটা ধর্ষিতা বোনের বাড়ির আঙিনায়,
যে আঙিনায় অনেক লক্ষ্মীরা আজ ক্যারাটের প্যাঁচে
ধরাশায়ী করছে তাদের লজ্জা আর ভয়কে।
মেয়ে, তুই লক্ষ্মী হ।
রাজনীতির কুরুক্ষেত্রে অসংখ্য লক্ষ্মীকে নিয়ে
উঠে দাঁড়িয়ে বল— সমাজটা পুরুষশাসিত নেই আর,
তুই বল: মাতৃশক্তি চালাবে সারা বিশ্বকে…
ওরে মেয়ে, তুই লক্ষ্মী হ—
তোর পেঁচা কিন্তু সব শুনছে তার উন্নত কান দিয়ে,
রাতের অন্ধকারে ঘটে চলা সবকিছু দেখছে
তার বড়োবড়ো চোখদুটো দিয়ে:
মেয়ে, তুই পারবি না, আমাকে একটা নতুন সকাল উপহার দিতে?
© শ্রী সৈকত
১৪ কার্ত্তিক, ১৪২৭
৩১ অক্টোবর, ২০২০
Sunday, 4 August 2024
দাগ
দাগ
~ শ্রী সৈকত
যারা গেছে, যারা নেই,
থেকে গেছে তারা বুঝি
চিন্তাতে সেভাবেই -
সাগরের ঢেউ যেন
বালিতে আঁচড় কেটে
ফেরে কেন,
দাগগুলো চেয়ে থাকে অনিমেষে
জানে না সে কী অপার বিষ্ময়ে
ফিরে আসে
ফিরে যায়, বহুদূর দিনশেষে
পাখিদের কাকলিতে ঘুম ভাঙে
সাগরের ধার ঘেঁষে
ঝিনুক কুড়িয়ে নেয়
হয়তো নেয়না বুঝি,
মরে যাওয়া ঝিনুকের প্রতি চির অনীহাতে
বেদন বিষম ক্ষতে
সমুদ্র কিনারাতে…
শ্রী সৈকত
১৯ শ্রাবণ, ১৪৩১, রাত্রি ১০:০৫
বহরমপুর
Friday, 4 June 2021
লাল কোট
লাল কোট
সাদা কোটের রক্ত, ‘অমূল্য’ থেকে ‘মূল্যহীন’ হয়ে যায়।
বুলেটের শক্ত মুখ, চলে যায়
মাংস শিরা উপশিরা ধমনীর বেড়াজাল ভেদ করে অনেক ভেতরে—
সেবায় ব্যস্ত মানুষটার দীর্ঘদিনের অযত্নে থাকা দেহটা,
কষ্ট পায় বটে, তবে আরো বেশি কষ্ট পায় তাঁর চেতনা।
আর তাঁরা ঘুরিয়ে একটা চড় মারলেই,
টিআরপিখোর মিডিয়া ছুটে যায় পঙ্গপালের মতন।
‘আক্রমণকারী’ হিসেবে শনাক্ত ক’রে,
কয়েকটা কলমের আঁচড়ে,
শেষ হয়ে যায় তাঁদের কর্তব্যের, তাঁদের জীবিকার সবটা।
তাঁরা মানুষের জন্য সরকারের বিরোধিতা করলে জেলে যাবেন,
তাঁরা পুলিশের মার খাবেন, জনতার মার খাবেন।
তাঁদের বুলেট প্রুফ জ্যাকেট প্রয়োজন হয় না,
তাঁদের কাছে আত্মরক্ষার জন্য থাকে না কোনো অস্ত্র,
কারণ, তাঁরা সেবক,
সেবকের নাকি শুধু লাথ খাওয়ার অভ্যাসটা থাকতে হয়,
মৃত্যুভয় নয়।
© শ্রী সৈকত
২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮
চিত্রঋণ: কার্টুনিস্ট সতীশ আচার্য্য
Sunday, 14 February 2021
আমার প্রেম
আমার প্রেম
~ শ্রী সৈকত
আমার প্রেমের কোনো দিন হয়না।
তীব্র শীতে হিমালয়ের কোলে দাঁড়িয়ে,
প্রতিটা নিঃশ্বাসের মধ্যে প্রেম মিশে থাকে আমার।
বরফের কামড়, প্রেমিকার চুমোর মতো
জড়িয়ে ধরতে চায় বারবার—
আমি প্রেমে থাকি, প্রতিদিন, প্রত্যেক ছোট ঘুমের রাতে।
আমার প্রেম, ঘাম হয়ে ঝরে পড়ে ক্রান্তীয় অঞ্চলের
প্রবল রুদ্র সূর্যতাপে, স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি অস্ত্র হাতে।
আমার প্রেম, উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে সোজা দাঁড়িয়ে থাকে,
মেরুদন্ড শক্ত করে, দুই কাঁধে চেপে থাকে গুরুদায়িত্ব,
উড়ে যায় বিমানের পাখা হয়ে, আমার ভালোবাসা।
আমার প্রেম ঝলসে ওঠে, শত্রুর মাথার খুলি ভেদ করে
চলে যায় দূরে… দেশের অখণ্ডতা, আমার প্রেম হয়ে
স্নিগ্ধ সুবাস ছড়ায় রাতের তারাদের ফাঁকে ফাঁকে।
আমার বুকের রক্ত, গোলাপ হয়ে ফুটে থাকে, আমার সমাধির পাশে,
তিনটে রঙে রাঙা প্রেম, বয়ে চলে সিন্ধু, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র দিয়ে।
আমার প্রেমের কোনো কবিতা লিখিনি আমি,
অসংখ্য কবির কলমে তুমি দেখেছ আমার প্রেমের ছবি:
অগণ্য মানুষের কন্ঠ যখন গেয়ে ওঠে ,
“জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে, ভারতভাগ্যবিধাতা…”,
কন্যাকুমারী থেকে লাদাখ পর্যন্ত শিহরিত হয়ে ওঠে
আমার প্রেম, ভারতবর্ষ, প্রেমের পুণ্যক্ষেত্র।
© শ্রী সৈকত
১ ফাল্গুন, ১৪২৭
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
Sunday, 31 January 2021
অন্য শীতের সকাল
অন্য শীতের সকাল
শীতের সকালের কুয়াশা কাটেনি এখনও।
সাড়ে পাঁচ মাস আগে, হাতের শিকল ভেঙে গেছে,
কিন্তু সেই হাত এখনও মুষ্ঠিবদ্ধ রয়েছে—
যদি কোনো নতুন শত্রু আসে আবার!
এত সকালেও চায়ের দোকানটা খুলে গেছে যথারীতি।
রোজ আসি এখানে, গল্পগুজব হয়— রাজনীতি, সংস্কৃতি থেকে
ধর্ম, শিক্ষা, গণতন্ত্র, মধুসূদন থেকে বিবেকানন্দ… সব!
হাসি আমোদ, খবরের কাগজ,
এই নিয়েই কেটে যায় সকালের প্রথম ভাগ।
বাড়িতে রেডিও নেই, তাই এখানে এসেই শুনি বাসী খবর!
এক-ভাঁড় চা দিতে বলে, আবার গিয়ে বসলাম বেঞ্চে;
মাটির ভাঁড় ছাড়া চা ভালো লাগেনা একদম,
মাটির একটা আলাদা সুগন্ধ আছে না?
ফেরার পথে কুমারটুলিতে যাব একবার,
বাগদেবীর পুজোয় আর পনেরো দিন বাকি।
মাটি দিয়ে কী অপরূপ মূর্তি গড়েন ওঁরা
মৃন্ময়ী প্রতিমা যেন চিন্ময়ী হয়ে ওঠেন তাঁদের নৈপুণ্যে!
যদিও তিন টুকরো হয়ে গেছে এই মাটি,
প্রতিদিন কত লোক ছুটছে উদভ্রান্তের মতো
একদিক থেকে আর এক দিকে— একটু মাটির জন্যে!
শান্তিতে থাকবে বলে টুকরো টুকরো করেই ছাড়লো ওরা,
বুড়োটার কোনো কথা শোনার প্রয়োজন মনে করলো না কেউ!
অশান্তি বাড়বে এতে, বলেছিল বুড়ো…
এর পরে আরো কী কী হবে, কী জানি!
চা চলে এসেছে এইসব ভাবতে ভাবতে।
মুখে একরাশ ভয়ের ছাপ নিয়ে
দোকানি আজকের খবরের কাগজটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল:
দাদা! শয়তানগুলো এখনও এই মাটি থেকে গেল না!
হাত থেকে পড়ে গেল চায়ের ভাঁড়টা!
ভাঁড়ের মাটিতে রক্তের ছিটে:
একটা পশু কাল খুন করে দিয়েছে বুড়োটাকে!!
©সৈকত দাস
৩১ শে জানুয়ারী, ২০২০
১৬ ই মাঘ, ১৪২৬
সর্বাধিক পছন্দের লেখা
-
লক্ষ্মী মেয়ে ~ শ্রী সৈকত মেয়ে, তুই লক্ষ্মী হ। মেয়ে, তুই ফসলের ক্ষেতে ক্ষেতে ছুটে বেড়া, হাতে হাত মিলিয়ে সোনার ফসল ফলা বন্ধ্যা মা...
-
স্বামী বিবেকানন্দ ও বিশ্বধর্ম ~ শ্রী সৈকত “ ‘রুচীনাং বৈচিত্র্যাদৃজুকুটিলনানাপথজুষাং । নৃণামে...





