Thursday, 6 February 2020

টিফিন কৌটোর দেশ

টিফি কৌটো দেশ
                                         ~ শ্রী সৈকত



দেশটা আমার উন্নত খুব, পৌঁছে গেছে মার্সে;
কৃষক থাকে আধপেটা আর মন্ত্রীরা খায় পারশে।
দেশটা আমার মেয়েকে পড়ায়, মেয়েকে বাঁচায় বলছে,
দিনে ষাটখানা ধর্ষণ হয়! নতুন ভারত টলছে।
দেশটা আমার শিক্ষা-দীক্ষা উছলে উছলে দিচ্ছে;
চাকরি খোঁজে শিক্ষিতরা হন্যে হয়ে ঘুরছে।
রাস্তার পাশে খোলা কল থেকে গঙ্গা যমুনা বইছে,
(আবার) কথায় দূষণ, কাজেও দূষণ, বাতাস দূষণ হচ্ছে।
দেশটা আমার সিংহে চড়া মাকে পুজো করে,
লাইব্রেরীতে ঢুকেই পুলিশ, ছাত্র পেটায় ধরে।
উৎসবে আর উল্লাসেতে দেশের ছেলেমেয়ে—
কৌটো খুলে খাবার দেখে, পেটায় লাঠি দিয়ে!
পাকস্থলীর মধ্যে ওরা জাতের গন্ধ ঠিক পায়,
নইলে কি আর গোবর দিয়ে রেডিয়েশন আটকায়?
ক্যানসারের ওই ওষুধ খুঁজে দিনের পরে দিন যায়,
আরে বিশেষ প্রাণীর মূত্র খেলেই সব বিলকুল ঠিক হ্যায়!
তুই কি জানিস সবার প্রথম প্লাস্টিক সার্জারি
স্টার্টেছিলাম এই আমরাই, গণেশদাকে ধরি!
কী বললি তুই, কোন সুশ্রুত পাল্টেছিলেন নাক—
সেটাই নাকি প্রথম ইভেন্ট? তুই চুপচাপ থাক!
মহাভারতে ইন্টারনেট, সোনার গরু প্রিয়,
গোডসে আবার দেশভক্ত, ভারতরত্ন দিও
(তাকে ভারতরত্ন দিও, তাকে ভারতরত্ন দিও)!
সাভারকরের ভারের চোটে উল্টে পড়ে গেলাম,
নিজেকে নিজেই নাম দিয়েছেন, ‘বীর’ বাহাদুর সেলাম!
গোলমালের এই মজার দেশে চক্ষু বুঝে থাকি,
যাক না বাবা গোল্লায় দেশ, কী রয়েছে আর বাকি?

তবু মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় রোজ, কোন মা আমার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে,
জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি গ্রহণ লেগেছে উজ্জ্বল গোল চাঁদে—
গ্রহণমুক্তি ঘটাবো আমার দেশের, এই প্রতিজ্ঞা করে ফেলি তক্ষুনি:
আমরা মোছাবো মায়ের চোখের জল, মহাকাল হাসে আমাদের কথা শুনি।
সে হাসিতে মিশে যাচ্ছে দেশের ধান, দেশের শিল্প, আর যত হাসিমুখ,
নতুন যুগের নতুন ভোরের কাছে, সূর্যমুখীরা হোক আজ উন্মুখ,
জ্ঞানের পূজারী হোক আজ উন্মুখ…

© শ্রী সৈকত
২২ শে মাঘ, ১৪২৬
বহরমপুর

No comments:

Post a Comment

সর্বাধিক পছন্দের লেখা

পুরুষোত্তমের প্রতি

পুরুষোত্তমের প্রতি                                          ~ সৈকত দাস হে চির সুধীর, কৌশলী বীর, তব বাণী ছায়াতলে, অব...