Thursday, 10 January 2019

উদ্ভাসিত পৃষ্ঠাগুলি


উদ্ভাসিত পৃষ্ঠাগুলি

                                    ~ সৈকত দাস



পড়ছি, শুধুই পড়ছি।
তুমি যেন এক আদ‍্যন্তহীন গ্রন্থ
অসংখ্য পাতা, গুনে উঠতে পারি নি
চেষ্টাও করিনি গোনার—
শুধুই পড়ে চলেছি অবাক হয়ে
কিছু যাচ্ছে বোঝা,
কিছু বা থেকে যাচ্ছে 'মাথার বোঝা' হয়ে!

অদ্ভুত সে বই
লেখা নেই লেখকের নাম তাতে
যেন তা লিখিত হয়েছে
লেখককে খোঁজার উদ্দেশ্যেই!

পাতার পর পাতা উল্টে চলেছি
ফেরার নেই পথ—
প্রতিটি পাতার শেষে দেখি লেখা আছে: "চরৈবেতি"!
এগিয়ে যেতে যেতে…
যেতে যেতে হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে তোমার মাঝে—

তুমিই কি আমি?
কোনোখানে কি মিশেছি আমরা?
নাকি আমরা আসলে একই সরলরেখা
ছিলাম, আছি, আর থাকবো ভবিষ্যতেও!

Sunday, 6 January 2019

প্রলয়ান্তে


প্রলয়ান্তে

                                        ~ সৈকত দাস



অসীম নিস্তব্ধতা! নিশ্চুপ চরাচর!
তোমার হাতের ওই বীণাখানি রুদ্র-সুরে
বাজতে বাজতে কখন গেছে থেমে, হে নটরাজ!
সৃষ্টিরে করে লয় বসে আছো তুমি একা
কবিত্বহীন জগতে, ওগো মহাকবি।
অন্তরের সকল অব্যক্ত বেদনা হয়েছে বিদূরিত:
অনন্ত শান্তিতে তুমি নিশ্চুপ, নিস্পন্দ, ধ্যানমগ্ন!
শক্তির স্পন্দন ঘটছে না কোনোখানেই।
অনাদি অনন্ত কবিতার খাতা খোলা পড়ে আছে—
কালির আঁচড় পড়েনি একটুও!
খোলা আছে তব জটাজাল, এলোকেশ তুমি আজ;
শশী সূর্য নক্ষত্রদল নিশ্চিহ্ন হয়ে মিলিয়েছে কোথায়…
তুমি নির্বিকার, নিস্পৃহ; নিস্তরঙ্গ তোমার চেতনা।
মনে হয় নব সৃষ্টির হবে নাকো আর নির্মাণ!
শক্তিহীন মহেশ্বর নিমগ্ন আজ মহাধ্যানে…

Saturday, 5 January 2019

প্রলয়ের আহ্বানে


প্রলয়ের আহ্বানে

~ সৈকত দাস



হে রুদ্র, হে নাথ! যেমন করে আজ
ভেঙে ফেলেছি ছন্দ আমি সব—
ভেঙে ফেলো যত আছে সৃজন তব।
ভালো মন্দ, কিছু না জানি
ভাঙো ভাঙো তুমি আজ!
হে শম্ভু, তোমার রুদ্ররূপ দেখতে
তৃষ্ণার্ত এ দুই নয়ন।
নাচো নাচো আজ প্রলয় ছন্দে
খুলে ফেল যত মোহ মায়া জাল;
স্রোতস্বিনীর মেনো নাকো মানা
উমাকে ভুলে নাচো তুমি আজ!
তোমার পায়ের আঘাতে কেঁপে উঠুক
এ ধরিত্রী! কঠিন-নরম ভেঙে যাক সব… সব!
নও তুমি কারো পতি, কারো পিতা নও,
হে সন্ন্যাসীরাজ, নাচো এবার আপন ভুলে।
ধরিত্রীর গভীর থেকে বেরিয়ে আসুক অগ্নি
খুলে যাক তোমার তৃতীয় নেত্র
দুচোখ থেকে ঝরে পড়ুক অন্তরের বেদনাশ্রু
হৃদয় নিংড়ানো অব্যক্ত কান্না—
সৃষ্টি মিলিয়ে যাক মহাশূন্যে…
বিলীন হোক সকল বেদনা!
চির অন্ধকারে ধ্যানমগ্ন হও, অতঃপর।।
© Saikat Das

Tuesday, 1 January 2019

নতুনের আহ্বানে

নতুনের আহ্বানে

                  ~ সৈকত দাস




যে বীণার ছিঁড়ে গেছে তার
আজ তারে, বাঁধো তুমি নতুন সুরে;
দূরে সরে যাক যত মৃত্যুভয়, লাজ,
নতুন করে শুরু হোক জীবনের এ পথ—
যে পথ হারিয়ে গিয়েছিল একদিন
গহীন বনের মাঝখানে;
অন্ধকার অগম্য সে পথের পথিক সেদিন ছিলে তুমি,
আমি আজ, সে পথেই চলেছি:
এসো তুমি, ধরো হাত, নইলে এ স্বপ্ন
আবার হবে ঘনঘোর মিথ্যায় নির্বাসিত!
আজ এ রাতের শেষে সূর্যোদয়ের সাথেই 
শুরু হোক আবার নতুন পথচলা।
যে কাঁটা ক্ষতবিক্ষত করেছে তোমাকে
তুলে ফেলে, ভুলে যাও সে ব্যাথার কথা—
নইলে রাতের রজনীগন্ধা
ঢালতে পারবে না সুবাস তোমার অন্তরে কোনোদিন;
নইলে ধ্রুবতারাও ব্যর্থ হবে অথৈ পাথারে
নাবিকের পথ নির্দেশনে!
সন্ধ্যার ইমন রাগ স্তব্ধ হবে হঠাৎ, গভীর দীর্ঘশ্বাসে—
অতীতের মিথ্যা স্বপ্ন হাহাকারে ভরে দেবে তোমার পৃথিবী!
ভুলে যাও, ভুলে থাকো অতীতের জঞ্জাল বেদনা!
আজ তুমি নতুন উদ্যমে, বিহঙ্গের পক্ষ সাথে নিয়ে
উড়ে চলো মহাসমুদ্রের উপর দিয়ে;
নাই নাই ভয়, আজ প্রাতে সূর্যের হবেই উদয়:
নতুন সূর্যের দিকে উড়ে যাবো আমরা কেবলই সম্মুখে…

Tuesday, 11 December 2018

পুরুষোত্তমের প্রতি

পুরুষোত্তমের প্রতি

                                         ~ সৈকত দাস



হে চির সুধীর, কৌশলী বীর, তব বাণী ছায়াতলে,
অবনত জাতি আজিকে গো দেখি উন্নত শিরে চলে!
হে রাজাধিরাজ, সন্ন্যাসী গৃহী, শঙ্খচক্রধারী—
হে গোঠরাখাল, ব্রজের গোপাল, কুঞ্জকাননচারী,
তব কণ্ঠের সে অমোঘ স্বর
ধ্বনিত হইছে ভেদি অম্বর
আজি এ নিশীথে মিলি মোরা সবে তোমার পূজার তরে
হে মহাবতার শঙ্খ বাজিছে আজিকে যে ঘরে ঘরে!


প্রথম সে রাতে কংসের হাতে বন্দী সে মাতাপিতা
জন্ম দিলেন পুরুষোত্তমে, জানিত জগৎ কি তা?
জানিত না বুঝি, তাই তো তোমারে উঠাইতে হল গিরি,
দশম বর্ষে ত্যাজিলে সবারে, কংসদর্পহারী!
মহাভারতের সেই মহারণে
ত্যাগের শিক্ষা দিলে অর্জুনে,
ন্যায় অন্যায় বিচারিতে তুমি দানিলে তোমার গীতা,
জগৎ জানিল সবই তব মায়া, তুমি আদি মাতাপিতা!


তুমি তো অনাদি, তুমি অনন্ত, তোমারে পুজিব কেমনে?
তাই তো মননে গড়িয়া মুরতি পুজিতে চাই গো যতনে!
তুমি বল নাই একটি পথেই হবে তব দিকে যেতে—
পথ যাই হোক, যোগী সে তো থাকে তোমাকেই নিয়ে মেতে।
কেউ বা বন্ধু ভাবে গো তোমায়
মা হয়ে কেহ বা তোমারে খাওয়ায়
কেউ বা তোমারে ভেবে প্রভুসম চাইছে চরণে স্থান।
সন্তান তব উন্মাদ হয়ে 'মা' বলিয়া ধরে গান!


সন্তানহীনা, ডাকে সেই মা, "আয়রে গোপাল আয়
কখন খাবি বল তো রে তুই, ওই বেলা বয়ে যায়!"
বন্ধু তোমাকে মুখে তুলে দেবে তার খাবারের ভাগ;
সন্ন্যাসী যে গো ত্যাজিবে সবারে, তোমা প্রতি অনুরাগ—
সে সদা বলিবে "সকলের সার
তুমি আর আমি একে একাকার,
কে প্রভু, কে দাস, বুঝি না তো আমি, কোনো ভেদ নাই আর!
সব স্থান আজ তুমি-ময় দেখি, মুছে গেছে সংসার!"


ভক্ত তোমার নেচে কেঁদে গেয়ে ডাকিছে তোমারে সদা,
দেখবেই তারা তাঁরে, যাঁর হাতে শঙ্খ চক্র গদা!
কেউ হাতে নিয়ে ত্রিশূল গরজে ব্যোম্ শঙ্কর ব্যোম্
তোমার প্রতীকে ঢালিতেছে জল, তুমিই অনাদি ॐ!
তোমারে ভজিছে কত শত নামে,
কেউ বলে শ্যাম, কেউ মাতে রামে,
"তব রহমতে ভালো আছি" বলে মোসলেম ভাইগণ
তোমার ক্রুশেতে নোয়াচ্ছে মাথা খৃষ্টান যেই জন।


শিখ খালসা উঠাইয়া শির বলে গুরুজীর জয়
তুমি আছো যবে তাদের সঙ্গে, নাহি কোনো পরাজয়।
তোমার মুরলী সদাই বাজিছে ভক্ত হৃদয় মাঝে,
নাস্তিক, সেও বিচার করিয়া খুঁজে ফেরে তোমারে যে!
সে তোমার লীলা বুঝিবারে নারে
তাই তো তোমায় খুঁজে খুঁজে মরে,
তুমি যে প্রকাশো জগৎ মাঝারে নানা রূপে নানা সাজে —
তুমিই যে তার, তুমিই বীণা, তব হাতে বীণা বাজে!


শিল্পী তোমারে ফুটিয়ে তুলিছে তাহার শিল্প মাঝে—
কেহ তুলে নিয়ে হাতে রং-তুলি, কেউ বা গানের ভাঁজে।
জগতে যা কিছু চির সুন্দর, যাহা কিছু সুধামাখা
তোমার গণিতে, তোমারই তুলিতে, তোমার মনেতে আঁকা!
হে পাপনাশন, আজিকে এবার
সুন্দরে তুমি আঁকো আরবার
পাপের ধরায় উঠুক আবার নতুন দিনের রবি
হিংসায় ভরা কৌরবমাঝে স্মরি তব নাম, কবি!



Sunday, 2 December 2018

সংসার পাঁকের মাঝে, এ হৃদয় বিক্রি আছে

সংসার পাঁকের মাঝে, এ হৃদয় বিক্রি আছে

                                             ~ সৈকত দাস




আমরা সবাই বিকোই, দুনিয়ার হাট বাজারে,

কখনো চুপে চাপে, কখনো লোক মাঝারে!

আমাদের চোখও বিকোয়, প্রেম আর রূপের মাঝে—

কখনো মায়ের মুখে, কখনো প্রিয়ার সাজে।

আমরা বিক্রি করি আমাদের ইন্দ্রিয় সব

কান তো উচ্চকিত শুনতে চটুল গুজব;

কর্মীরা বিকোচ্ছে হাত ফি-দিনের কিনতে রুটি

জগতের এই বাজারে কেউ তো চায় না ছুটি!

ছুটি চায়, আঁচড় খেলে, মাইনে ঠিক না পেলে,

সং-সার বুঝল না যে, দিন তার গেলই চলে।

দেখি আজ বিকোচ্ছে মন স্বার্থের প্রেমের কাছে

স্বার্থ ফুরিয়ে গেলেই ভোলা মন ঝুলছে গাছে!

ওরে প্রেম সত্যি আছে, একেবারে স্বার্থ ছাড়া

সে পিরিত বিলিয়ে গেলেন নদীয়ার প্রেমিক গোরা!

সে প্রেমেও বিকোয় হৃদয়, জগতের সবা তরে

কেনা আর বিক্রি ছাড়া কিবা আছে এ সংসারে?

যে জিনিস বেচলে পরে এ হাটের ক্ষান্তি হবে

সে হৃদয় বিক্রি করে কে তাঁরে কিনছে কবে?

তুলসী যে আকর্ষণে পৌঁছোল স্ত্রী এর ঘরে—

সেই এক প্রেমের টানে প্রভু রামে আপন করে!

দশ দিকে উঠছে আজি বিবেকের প্রেমের বাণী

ধন, জন বিকিয়ে দিয়ে একবার আয় দেখিনি!

এসে দেখ মানবপ্রেমে হাসছেন পাগল ঠাকুর

শিবরূপ জীবের সেবায় দে আজ জীবনটা তোর।

ভালোবাস আজ পাপীরে, চোরকে ধর না বুকে,

ঈশামসি ডাকছেন ওই দাঁড়িয়ে সজল চোখে!

আজ তবে যাক বিকিয়ে দুনিয়ার হৃদয় যত

বুদ্ধের পায়ের কাছে মাথা আজ হোক না নত—

পুরুষোত্তমের পায়ে হোক আজ শরণাগত—

প্রেম হোক বাঁধনছাড়া ঘুচে যাক ময়লা যত!

©Saikat Das


সর্বাধিক পছন্দের লেখা

পুরুষোত্তমের প্রতি

পুরুষোত্তমের প্রতি                                          ~ সৈকত দাস হে চির সুধীর, কৌশলী বীর, তব বাণী ছায়াতলে, অব...